দুই বছর আগের একটি কথোপকথন আজ ফের আলোচনায়। তখন স্পেন মাত্র ইউরো জেতার পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামালের তুঙ্গস্পর্শী প্রশংসা শোনা যাচ্ছিল। ওই সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হয়—প্রিমিয়ার লিগের একজন খেলোয়াড়কে যদি বার্সেলোনায় আনা সম্ভব হয়, তাহলে কার নাম বলবেন। বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করেই ইয়ামাল বলেছিলেন নামটা—কেভিন ডি ব্রুইনা।

আজকের স্পেন-বেলজিয়ামের ম্যাচ সেই দুই তারকাকে একই মঞ্চে দাঁড় করাচ্ছে। কিশোর ইয়ামালের বয়স কদিন পরই হবে ১৯। বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে পা রেখেছেন এবারই প্রথম। আর ৩৪ বছর বয়সী ডি ব্রুইনা এখন শুনতে পাচ্ছেন বেলা শেষের গান।

তবে ইয়ামালের বিশ্বকাপটা শুরুতে নিশ্চিত ছিল না। এপ্রিলে সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে চোটের কারণে তাঁর বিশ্বকাপ খেলাই পড়ে যায় সংশয়ে। এরপর ইয়ামালও বলছিলেন, ঠিক ওই মুহূর্তে ভেবেছিলেন তাঁর বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নটা বুঝি ভেস্তেই গেল! শেষ পর্যন্ত চোট কাটিয়ে ফিরেছেন স্পেন দলে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে গোলের জন্য মরিয়া স্পেন কোচ ইয়ামালকেও নামান, যদিও গোল পাননি।

সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ১০ মিনিটেই পেলের পর দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলও পান ইয়ামাল। তবে এখনো বার্সেলোনা বা ইউরোর সেই ইয়ামালকে বিশ্বকাপে নিয়মিতভাবে দেখা যায়নি—এমন কথাও বলা হচ্ছে। শেষ ষোলোতে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইয়ামাল বলেছিলেন, পর্তুগাল লেফটব্যাক নুনো মেন্দেস তাঁর দেখা সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষদের একজন। শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে ইয়ামালকে খুব বেশি কিছু করতে দেননি মেন্দেসই। কেউ কেউ মনে করছেন, ইয়ামাল হয়তো বেলজিয়াম ম্যাচের জন্য নিজের সেরাটাই রেখে দিয়েছেন।

বেলজিয়ামও জানে, ইয়ামাল নিজের দিনে কী করতে পারেন। বেলজিয়াম গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া বলছেন, ‘আমরা জানি, ইয়ামাল কতটা প্রতিভাবান খেলোয়াড়। বিশেষ করে গোলরক্ষককে একা পেলে সে আরও বেশি ভয়ংকর। সে খুবই ক্ষিপ্র, দ্রুতগতির এবং দরকার হলে দুজনকেও কাটিয়ে ফেলতে পারে।’

এবারের স্পেন দলে ইয়ামালের ক্লাব সতীর্থদেরও অনেকেই রয়েছেন। তাঁদেরই একজন দানি ওলমো বলেছেন, গোল বা অ্যাসিস্টে এখনো বড় কিছু করতে না পারলেও ইয়ামালের মাঠে নামা মানেই স্পেনের জন্য আশীর্বাদ। তিনি বলেন, ‘ইয়ামাল তার ড্রিবলিং ও উপস্থিতি দিয়ে ব্যবধান গড়তে পারে। যখন সে বল পায়, এরপর দুই বা তিনজন যখন তাকে ঘিরে ধরে, তখন আমরা বাড়তি জায়গা পেয়ে যাই। ইয়ামাল সব সময় গোল বা অ্যাসিস্ট করে, নিজের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে আগেও করেছে। কিন্তু সেগুলো না করলেও তার খেলাটা দলের জন্য অনেক জরুরি।’

গোল পান বা না পান, ইয়ামাল আজ ফিট থাকলে মাঠে নামবেন। তবে ডি ব্রুইনার ক্ষেত্রে কথাটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিদেরই একজন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে থাকতে হয়েছিল। ওই ম্যাচে বেঞ্চ থেকে ডি ব্রুইনাকে দেখাতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দেওয়া দলের ৪-১ গোলের জয়। আজও তাঁকে বসিয়ে রাখলে সেটা বিস্ময় হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে ডি ব্রুইনা জেনে গেছেন, এবারই হয়তো শেষ। ২০১৪ বিশ্বকাপে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপে সোনালি প্রজন্মের দলকে নিয়ে হয়েছিলেন তৃতীয়। ২০২২ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর কোচের সঙ্গে বিবাদে কেউ কেউ শেষ দেখে ফেলেছিলেন জাতীয় দলে তাঁর যাত্রার। তবুও ডি ব্রুইনা আছেন এখনো। গোল পেয়েছেন এই বিশ্বকাপেও। বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়াও জানেন, দরকারের সময় এই ডি ব্রুইনাই বদলে দিতে পারেন ম্যাচ।

আজকের দিনটা শেষ পর্যন্ত কার হবে, তা জানা যাবে মাঠেই।