ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় থামছেই না। এবার এই ইতালিয়ান কোচকে সরাসরি ছাঁটাইয়ের দাবি তুলেছেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আনচেলত্তির তীব্র সমালোচনা করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে আনচেলত্তির বেশ কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নেইমারকে কেন শুরুর একাদশে রাখা হলো না এবং ব্রুনো গিমারাইসকে কেন পেনাল্টি শট নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হলো—ম্যাচ শেষে এমন সব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল আনচেলত্তিকে। ব্রাজিল কোচ নিজের মতো করে এসবের ব্যাখ্যা দিলেও তা মোটেও সন্তুষ্ট করতে পারেনি সেলেসাওদের সাবেক তারকাদের।

আনচেলত্তির ওপর নিজের প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে রোমারিও বলেন, ‘আমি হলে তার চুক্তি ছিঁড়ে ফেলতাম। ম্যাচ শেষে আমি সভাপতি হিসেবে লকার রুমে যেতাম এবং বলতাম, “ঠিক আছে, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, বিদায়, গোল্লায় যান। বিষয়টি আদালতে নিয়ে যান, তারপর আমরা দেখব কী হয়।”’

ম্যাচ চলাকালীন আনচেলত্তির খেলোয়াড় পরিবর্তন ও পজিশন বদল নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রোমারিও। তিনি বলেন, ‘সে কী ভাবছিল আমি তো সেটাই বুঝতে পারলাম না। গিমারাইসকে তুলে নিয়ে এদেরসনকে রাইটব্যাকে খেলানো হলো! আর এটা আপনি এ কারণে করলেন; কারণ, আপনি অন্য কোনো ফুলব্যাক দলে ডাকেননি? একজন ফুলব্যাক চোট পেল আর আপনি সেখানে একজন সেন্টারব্যাককে নামিয়ে দিলেন?’

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শুরুতেই ব্রাজিলের এমন বিদায়ে আনচেলত্তির আর দায়িত্বে থাকা উচিত নয় বলে মনে করেন রোমারিও। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই মহাবিপর্যয় এবং লজ্জাজনক পরিস্থিতির পর আনচেলত্তি কোনোভাবেই ব্রাজিলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন না। আমি আগের তিনটি শোতেও এটি বলেছি এবং এখানেও আবার বলছি।’

ব্রাজিলের কোচিং প্যানেলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করে রোমারিও আরও যোগ করেন, ‘এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ পরিস্থিতি বদলাতেই হবে। এভাবে চলতে পারে না! আমাদের দুঙ্গা ছিল, সে হেরেছে এবং চলে গেছে। আমাদের ফেলিপে স্কলারি ছিল, সে বিশ্বকাপ জিতেছে এবং থেকে গেছে। আমাদের তিতে ছিল, সে হেরেছে, থেকে গেছে এবং আবারও হেরেছে। আর এখন আমাদের এই আনচেলত্তি আছে, যে হেরেছে এবং এখনো থেকে যাচ্ছে।’

নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হওয়ার পর দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে উত্তপ্ত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, রোমারিওর এই কড়া মন্তব্য তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল।