উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এক নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বহিষ্কৃত আতাউল্লাহ শাহ দলটির গাজীপুর মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব পদে দায়িত্বরত ছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আতাউল্লাহর উদ্দেশে লেখা এই বহিষ্কারাদেশের চিঠিটি গতকাল গভীর রাতে দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত এই নেতা পুলিশের রিমান্ডে রয়েছেন।

আতাউল্লাহকে পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আপনার বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে একটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এমন অবস্থায় দলীয় গঠনতন্ত্র ও প্রযোজ্য সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী আপনাকে এনসিপির গাজীপুর মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব পদসহ দলের সব পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং প্রাথমিক সদস্যপদ হতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৫ জুলাই সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠ থেকে আতাউল্লাহ শাহসহ মোট ছয় যুবককে আটক করে পুলিশ। ওই দিনই যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক এ বি সিদ্দিক তাঁদের আদালতে হাজির করে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চান। শুনানি শেষে আদালত আতাউল্লাহসহ ছয়জনেরই তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে থাকা অন্য পাঁচ যুবক হলেন— শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আবিদুর রহমান ও বায়োজিত।

আদালতে জমা দেওয়া রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, যাত্রাবাড়ী এলাকায় টহল ও অভিযান তদারকির সময় গোপন সূত্রে খবর আসে যে, মিনি কক্সবাজার এলাকায় আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের পাশের বালুর মাঠে কয়েকজন ব্যক্তি উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণের জন্য সমবেত হয়েছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে পালানোর চেষ্টাকালে ওই ছয়জনকে আটক করা হয়।