ওমান উপকূলের অদূরে হরমুজ প্রণালিতে গতকাল সোমবার একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও (UKMTO) জানিয়েছে, একটি ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের উপকূলীয় গ্রাম লিমাহ থেকে ৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে একটি ট্যাংকারে হামলার এই ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি আরও বলেছে, “ট্যাংকারের বাঁ পাশে অজ্ঞাত বস্তুটি আঘাত হানলে সেটিতে আগুন ধরে যায় বলে খবর পাওয়া গেছে।” তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকার এবং যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ইউকেএমটিওকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলমান থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হামলার ঘটনা ঘটল। সংঘাতের অবসান এবং কৌশলগত এই নৌপথটি পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এরপর থেকে প্রণালিটিতে নৌযান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। তবে ইরান স্পষ্ট করে বলেছে, যুদ্ধ-পূর্ব ব্যবস্থায় আর ফেরা হবে না। বর্তমানে তেহরান তাদের উপকূল বরাবর অনুমোদিত নির্ধারিত করিডরের বাইরে অন্য কোনো পথ ব্যবহার না করতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে।
এর আগে যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালি চরম উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ইরান এই জলপথ অবরোধ করলে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয় এবং নৌযান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে এবং প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।
বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ইরান ছাড়াও ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে, যার বার্ষিক আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলার। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই পথে নৌযান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইআইএর ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রণালি দিয়ে পারাপার হওয়া অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির প্রায় ৮২ শতাংশ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গেছে। ধারণা করা হয়, ইরান তাদের রপ্তানি করা তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই চীনে পাঠায়।






