ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার শাসনভার ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। প্রায় দুই দশক ধরে এই অঞ্চলটি পরিচালনা করার পর ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা ঘোষণা করেছে তারা। একই সঙ্গে উপত্যকাটির পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রস্তাবকেও স্বাগত জানিয়েছে হামাস।
গতকাল সোমবার হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার গণমাধ্যম দপ্তরের মাধ্যমে এই অভিপ্রায়ের কথা জানানো হয়। তবে গাজায় আংশিক কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিকে আরও জোরদার করতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। এছাড়া উপত্যকার বর্তমান মানবিক সংকট নিরসনে এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে।
গতকাল প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, তারা প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি মেনে একতরফা নিরস্ত্রীকরণের কোনো প্রতিশ্রুতি ওই বিবৃতিতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, ঠিক কবে নাগাদ শাসনভার হস্তান্তর করা হবে, সেই নির্দিষ্ট সময়সীমাও জানায়নি হামাস।
হামাস যে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে, সেটি ‘গাজা প্রশাসন–বিষয়ক জাতীয় কমিটি’ বা এনসিএজি নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এই কমিটি গঠিত হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের এই ঘোষণা প্রতীকীভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা স্থবির হয়ে পড়া শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরায় সচল করতে পারে। এর ফলে গাজায় অবরুদ্ধ প্রায় ২১ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার পুনর্গঠন এবং ত্রাণ পৌঁছানোর পথ সহজ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়, যার ১ হাজার দিন পূর্ণ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। ইসরায়েলি আগ্রাসনে উপত্যকাটির ৯০ শতাংশের বেশি এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা এখন ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এই যুদ্ধে নারী ও শিশুসহ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং যুদ্ধবিরতির যাবতীয় উদ্যোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।






