ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৫০ বাংলাদেশি। গতকাল রোববার রাত নয়টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাঁরা বেনাপোল দিয়ে দেশে ফেরেন।

এ সময় দুই দেশের পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী আছেন। তাঁদের বাড়ি যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, সাতক্ষীরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ ও চাঁদপুর জেলায়।

ফেরত আসা ফিরোজ মাহমুদ বলেন, ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে দালালের মাধ্যমে সীমান্তের অবৈধ পথ দিয়ে তিনি ভারতের তামিলনাড়ু গিয়েছিলেন। সেখানে বাসাবাড়ি, গার্মেন্টস কারখানা ও ইটভাটায় কাজ করতেন। ভারতীয় পুলিশ তাঁকে আটক করে আদালতে পাঠায়। অনুপ্রবেশের দায়ে সেখানকার আদালত তাঁকে তিন বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠান। কারাভোগ শেষে ভারতের একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা তাঁকে জেলখানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে শেল্টার হোমে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তিনি দেশে ফিরেছেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৫০ বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে বেনাপোল বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে দুটি মানবাধিকার সংস্থার জিম্মায় তাঁদের হস্তান্তর করা হয়।

মানবাধিকার সংস্থা যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক অপূর্ব কুমার সাহা বলেন, অবৈধভাবে বিভিন্ন সময়ে ভারতে গিয়ে ৫০ জন নারী–পুরুষ তামিলনাড়ু রাজ্যের পুলিশের হাতে আটক হন। ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন নারী ও ৪৬ জন পুরুষ। চারজন নারীকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার এবং ৪৬ জন পুরুষকে রাইটস যশোর নামে আরেকটি মানবাধিকার সংস্থা গ্রহণ করে পরিবারের কাছে দিয়েছে।