মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গেলে দলটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের কার্যালয়ে আজ রোববার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করেছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। এনডিএমের প্রতিষ্ঠাতা হলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি এই দল ছেড়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে বিএনপি সরকারে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল এক অনুষ্ঠানে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের কথা বলেন। আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেছি আমরা, অন্যরাও দাবি করেছেন। তদন্ত হচ্ছে। ইনশা আল্লাহ, খুব শিগগির রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইন সংশোধন করা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে আছে—রাজনৈতিক দলের, সংগঠনের বিচার করা যাবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় আওয়ামী লীগের বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকার কথা জানালেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি আজ সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের কাছে জনৈক রাজনৈতিক সংগঠনের জনৈক ব্যক্তি একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগটি যথাযথভাবে তাঁরা ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় পাঠিয়েছেন। সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি হবে না, সে বিষয়ে সংস্থা তদন্ত করছে। তদন্ত করার পর যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তাঁর কাছে যদি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাঁর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে।
সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের কথা বলেছেন উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ প্রণয়ন করে। সেই আইনের আলোকে ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ আইন সংশোধন করে সেখানে ‘অর্গানাইজেশন’ শব্দটা যোগ করা হয়। তারাই সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ করে। এই আইনে ব্যক্তির সঙ্গে সঙ্গে সত্তাকেও বিচারের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, যেকোনো সংগঠন যদি কোনো অপরাধ করে, তাহলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচার করা যাবে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ।
চিফ প্রসিকিউর বলেন, বিচার–বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অর্গানাইজেশনের (সংগঠন) বিচার এবং দল নিষিদ্ধ করার আইনগুলো আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময় সরকারে এসে প্রণয়ন করেছে। অন্য কোনো সরকার কখনোই কিন্তু এই জাতীয় আইন প্রণয়ন করেনি। ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ এর আওতায় বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। সেখানে তাঁরা আইনটি অব্যাহতভাবে ব্যবহার করছেন। একই আইনে বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে।






