‘আয় আর একটিবার আয় রে সখা, প্রাণের মাঝে আয়/মোরা সুখের দুখের কথা কব, প্রাণ জুড়াবে তায়।’ এ গানটিই বোধ হয় ঘুরেফিরে বাজছিল সবার মনে। আহ্‌ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (আবিপ্রবি) স্থাপত্য বিভাগের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৩ জুলাই বিকেলে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এইচ খান মিলনায়তন হয়ে উঠেছিল আবেগমাখা এক মিলনমেলা।

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সূচনালগ্ন থেকেই ছিল স্থাপত্য বিভাগ। স্থপতি এম এ মুক্তাদিরের হাত ধরে বিভাগটির যাত্রা শুরু হয়। তিন দশকের পথচলায় স্থাপত্য বিভাগ রাঙিয়ে গেছেন হাজারো শিক্ষার্থী। নতুন ও পুরোনো সবাইকে এক ছাদের নিচে আনতেই এই আয়োজন।

‘প্রজন্মের মেলবন্ধন: ভবিষ্যতের ভাবনা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২ জুলাই শুরু হয়েছিল আয়োজন। চার দিনের আয়োজনে ছিল সেমিনার, স্মৃতিচারণা, প্রজেক্ট ডিসপ্লে ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল ডিজাইন শ্যারেট, যেখানে অংশ নিয়েছিলেন আবিপ্রবিসহ ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৭৮ শিক্ষার্থী। প্রথম স্থান অর্জন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ফারিয়া তানজিম, জুবায়ের হোসেন ও হাসিবুল হাসান। প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের দল। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। উদ্বোধনী সন্ধ্যায় আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় স্থপতি এম এ মুক্তাদিরকে। এ সময় উন্মোচন করা হয় শিক্ষার্থী ও প্রাক্তনদের কাজ নিয়ে বই—৩০তম বার্ষিকী স্মারক গ্রন্থ।

গত শুক্রবার সেমিনার, স্মৃতিচারণা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল। সেমিনারে বক্তব্য দেন স্থপতি মুস্তাফা খালিদ, শরিফ শামস, সাইফুল ইসলাম ও আশিক ভাষ্কর। আরেকটি আলোচনায় বক্তব্য দেন স্থপতি জিশান ফুয়াদ চৌধুরী, রুকুন উদ্দিন ভুইয়া, শফিউল আজম ও হোসেন মুরাদ।

মূল আয়োজনের পর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ারফেজ ব্যান্ডের সদস্য ও আবিপ্রবি স্থাপত্য বিভাগের সাবেক শিক্ষক শামস মনসুর। স্থাপত্য বিভাগের অন্যান্য আয়োজন শেষ হলেও আজ সর্বসাধারণের জন্য খোলা থাকবে প্রদর্শনী। ঘুরে ঘুরে দেখা যাবে বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থপতিদের কাজ।