রাতে কাজ শেষে নিজের রেস্তারাঁ বন্ধ করে বাসায় ফিরবেন, কিন্তু মন্ট্রিয়লের মন্ট রয়্যাল এলাকার একটি রেস্তোরাঁর পেছনে পার্কিং করা নিজের হোন্ডা সিআর-ভি গাড়িটি আর খুঁজে পাননি মালিক। কয়েক মাসের ব্যবধানে একই ঘটনা ঘটে তাঁর জীবনে দুবার। মন্ট্রিয়লে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে টরন্টো থেকে এসেছিলেন এক অতিথি। রিসিপশন হলের পার্কিং লটে রেখে যাওয়া তাঁর লেক্সাস কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উধাও।
কাজ শেষে জুইস জেনারেল হাসপাতাল থেকে বের হয়ে নিজের গাড়িতে উঠতে গিয়ে এক কর্মী দেখেন, রাস্তায় পার্কিং করা গাড়িটি নেই। লাসালের একটি বাসার ড্রাইভওয়েতে রাতে রাখা গাড়ি সকালে আর খুঁজে পাননি মালিক। আবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিবার নিয়ে মন্ট্রিয়ল ভ্রমণে এসে একটি এয়ার বিএনবির ড্রাইভওয়েতে গাড়ি রেখে কিছু সময় ঘরের ভেতরে ছিল এক পরিবার । তারা বের হয়ে দেখে, নিমিষেই গাড়িটি চলে গেছে চোরের দখলে।
.প্রতিটি ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্তদের প্রথম পরামর্শ ছিল, ইনস্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সেই সঙ্গে প্রায় একই ধরনের হতাশাজনক মন্তব্য, ‘গাড়ি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’
তবে একটি ঘটনা যেন পুরো পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই নতুন মাত্রা দেয়। চুরি যাওয়া একটি গাড়ি উদ্ধারের খবর পেয়ে মালিককে পুলিশ লাভালের একটি ঠিকানায় যেতে বলে। সেখানে গিয়ে তিনি সত্যিই নিজের গাড়িটি খুঁজে পান। আনন্দের সংবাদটি পরিবারের সদস্যদের ফোনে জানাচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে দুজন ব্যক্তি দৌড়ে এসে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িটি আবার ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশকে জানানো হলে তাঁদের মন্তব্য ছিল, ‘ফোনটি পরে করলেও পারতেন।’
সম্প্রতি লাসালে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে টরন্টো থেকে আসা আরেক অতিথির লেক্সাস। দিনের আলোয় বাসার সামনের রাস্তায় পার্কিং করা গাড়িটির জানালার কাচ ভেঙে চুরির চেষ্টা চালান কালো মুখোশ পরা তিন ব্যক্তি। তাঁদের একজন পাশেই আনা একটি দামি গাড়ির চালকের আসনে অপেক্ষা করছিলেন, আর বাকি দুজন কাচ ভাঙছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে বাসার ওপরতলা থেকে ঘটনাটি দেখে বাসিন্দারা চিৎকার করতে করতে নিচে নেমে এলে তাঁরা দ্রুত পালিয়ে যান। এক প্রতিবেশীর করা ঘটনাটির ভিডিও চিত্রও পুলিশকে দেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ জানায়, শুধু লাসাল এলাকাতেই গড়ে প্রতিদিন অন্তত একটি গাড়ি চুরি হয়!
.এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এগুলো শুধু মন্ট্রিয়লের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা, আর সেগুলোর সবই বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া। বৃহত্তর মন্ট্রিয়ল কিংবা টরন্টোসহ কানাডার অন্যান্য শহরের চিত্র যোগ করলে গাড়ি চুরির প্রকৃত পরিসর আরও অনেক বড় ও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ তাঁদের ব্যক্তিগত যানবাহন হারাচ্ছেন, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা, আর্থিক ক্ষতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নাগরিকদের উদ্বেগ। কানাডাজুড়ে অব্যাহত গাড়ি চুরির এই হচ্ছে বাস্তব চিত্র। কারণ, চোরচক্রের কৌশল ও প্রতিরোধে গৃহীত উদ্যোগ নিয়েই এই প্রতিবেদন।
গাড়ি চুরি, গোলাগুলি, হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, টেলিফোন, অনলাইন প্রতারণাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নানা চ্যালেঞ্জ এবং অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ও উন্নত দেশ হিসেবে কানাডার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ওঠে এসেছে উদ্বেগজনকভাবে চলমান গাড়ি চুরির ঘটনা।
পরিসংখ্যান বলছে, কানাডায় প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি গাড়ি চুরি হচ্ছে। চুরির ঘটনার অধিকাংশই টরন্টো ও মন্ট্রিয়লে। ভাবনার বিষয়, চোরাই গাড়ি উদ্ধারের ঘটনা সংখ্যায় একেবারেই অনুল্লেখ্য। এমনকি নিজ বাড়ির সামনে গাড়ি পার্কিং করেও মালিককে আতঙ্কে থাকতে হয়—কখন এটি চোরের হাতে চলে যায়! বিশেষ করে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গাড়ি চুরি এমন মাত্রায় পৌঁছায় যে ফেডারেল সরকার এটিকে সংগঠিত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
.গাড়ি চুরি কেবল একটি সম্পত্তি-সংক্রান্ত অপরাধ নয়। কানাডার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, এটি এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র, অর্থ পাচার ও সহিংস অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি ছিনতাই, বাড়িতে ঢুকে চাবি ছিনিয়ে নেওয়া এবং অস্ত্রধারী অপরাধের ঘটনাও বেড়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, কেন কানাডার মতো দেশে হাজার হাজার গাড়ি চুরি হয়ে বিদেশে পাচার হয়ে যায়? কেন পুলিশ, কাস্টমস ও সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী এত দিনেও এই অপরাধ পুরোপুরি দমন করতে পারেনি? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে, অধিকাংশ গাড়ি চুরি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এর পেছনে রয়েছে বহুস্তরবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র। একটি দল গাড়ি চুরি করে, আরেকটি দল গাড়ির পরিচয় বদলে দেয় বা জাল নথি তৈরি করে। এরপর অন্য একটি নেটওয়ার্ক কনটেইনারে তুলে বন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। শেষ ধাপে বিদেশে থাকা সহযোগীরা আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও অন্যান্য বাজারে সেগুলো বিক্রি করে। পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত অর্থ পাচার ও আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৪ সালে কানাডার সীমান্ত সংস্থা (সিবিএসএ) সংসদীয় কমিটিকে জানায় যে দক্ষিণ আমেরিকার কিছু সংগঠিত চোরচক্র ভুয়া বা প্রতারণার মাধ্যমে প্রাপ্ত ভ্রমণ নথি ব্যবহার করে কানাডায় প্রবেশ করে, যাদের সংঘবদ্ধ চুরিতে জড়িত থাকার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। কিছু ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং, শিপিং ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের মালিক বা পরিচালনাকারীরা চুরি হওয়া গাড়ি বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
.এ ছাড়া চলতি সালে এই দুর্নীতি তদন্তে বর্তমান ও সাবেক আটজন টরন্টো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হন। তাঁদের বিরুদ্ধে ঘুষ, বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা, মাদক পাচার, চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ ও গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই মামলা সরাসরি গাড়ি চুরি চক্রের তদন্ত নয়; এটি বৃহত্তর দুর্নীতি ও সংগঠিত অপরাধে পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগসংক্রান্ত পৃথক তদন্ত। অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন।
তদন্ত রিপোর্ট বলছে, চুরি হওয়া গাড়ির বড় অংশ আসে গ্রেটার টরন্টো এলাকা থেকে। কিন্তু সেগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ দেশের বাইরে পাঠানো হয় মন্ট্রিয়ল বন্দরের মাধ্যমে। পোর্ট অব মন্ট্রিয়ল আন্তর্জাতিক গাড়ি পাচারের একটি প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এটি পূর্ব কানাডার সবচেয়ে বড় কনটেইনার বন্দরের একটি, ইউরোপ, পশ্চিম আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে নিয়মিত কনটেইনার জাহাজ চলাচল করে। এখানে প্রতিদিন প্রচুর কনটেইনারে মালামাল বোঝাই করা হয়। চোরাই গাড়িও প্রায়ই বৈধ পণ্যের কনটেইনারে লুকিয়ে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। অর্থাৎ টরন্টো হচ্ছে প্রধান চুরির এলাকা, আর মন্ট্রিয়ল দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রপ্তানি নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৪ সালের প্রজেক্ট ভেক্টর অভিযানে শত শত কনটেইনার তল্লাশি করে ৫৯৮টি চুরি হওয়া গাড়ি উদ্ধার করা হয়, যার অধিকাংশই অন্টারিও থেকে চুরি হয়েছিল। এ ছাড়া সীমিত পরিসরে পোর্ট অব হ্যালিফ্যাক্স থেকেও কিছু চালান শনাক্ত হয়েছে, তবে তদন্তে মন্ট্রিয়ল বন্দরের নামই বেশি এসেছে।
.চোরেরা এখন আর শুধু তালা ভেঙে গাড়ি নেয় না। তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। কি-ফব সিগন্যাল কপি বা রিলে আক্রমণ, গাড়ির সফটওয়্যার হ্যাকিং, ডায়াগনস্টিক পোর্টের মাধ্যমে নতুন চাবি প্রোগ্রাম করা ইত্যাদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পেশাদার চোরচক্র কয়েক মিনিটের মধ্যে গাড়ি সরিয়ে নেয়। নতুন প্লেট লাগিয়ে দ্রুত সেসব নির্দিষ্ট স্থানে রাখা কনটেইনারে ঢুকিয়ে নেয়। এসব কারণে নতুন মডেলের এসইউবি, পিকআপ ট্রাক ও বিলাসবহুল গাড়ি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
ইকুইট অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ ২০২৫ সালে প্রকাশিত জাতীয় প্রতিবেদনে কানাডার সবচেয়ে বেশি চুরি হওয়া গাড়ি হচ্ছে, টয়োটা র্যাভ ৪, ডজ র্যাম ১৫০০, হোন্ডা সিআর-ভি, ফোর্ড এফ ১৫০, হোন্ডা সিভিক, জিপ র্যাংলার, শেভ্রোলেট সিলভেরাডো/জিএমসি সিয়েরা ১৫০০, টয়োটা হাইল্যান্ডার, টয়োটা টুন্ড্রা, লেক্সাস আরএক্স সিরিজ। এর মধ্যে টয়োটা, হোন্ডা, লেক্সাস বেশি চুরির কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এদের পুনর্বিক্রয় মূল্য অনেক, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে চাহিদা বেশি, জনপ্রিয় মডেলে কিলেস প্রযুক্তি থাকায় সংগঠিত চক্র এগুলোকে বেশি লক্ষ্য করে। তবে প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব পুশ-বাটন স্টার্ট গাড়ি সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়। নতুন প্রজন্মের কিছু মডেলে উন্নত এনক্রিপশন, আলট্রাওয়াইডব্যান্ড প্রযুক্তি, ইমোবিলাইজার এবং দূর থেকে ইঞ্জিন নিষ্ক্রিয় করার মতো নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে। ফলে নির্মাতা ও মডেলভেদে চুরির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হতে পারে।
চুরির ফলে গাড়িমালিকদের শুধু আর্থিক ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলাই পোহাতে হচ্ছে না, গাড়ির বিমা প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পাচ্ছে, নতুন করে বিমা পেতেও সমস্যা হচ্ছে, বিমা কোম্পানিগুলোকে বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পুলিশ, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সীমান্ত নিরাপত্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। বিমা কোম্পানিগুলোর এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ৪৭ হাজার গাড়ি চুরি হয় এবং বিমা খাতে ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০০ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার।
.২০২৪ সালে ফেডারেল সরকার ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান অন কমব্যাটিং অটো থেফট চালু করে। এর আওতায় সীমান্তে কনটেইনার তল্লাশি বৃদ্ধি, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বন্দর নজরদারি জোরদার, গাড়ি নির্মাতাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ, সংগঠিত অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার তদন্ত—এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গাড়ি চুরি রোধে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি না হলেও পরিস্থিতি কিছুটা ভালোর দিকে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে জাতীয়ভাবে গাড়ি চুরি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। সীমান্তে হাজারো চুরি হওয়া গাড়ি আটক করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত যৌথ অভিযানে প্রায় তিন হাজার চুরি হওয়া গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্ত সংস্থা ২০২৪ সালে ২ হাজার ২৭৭টি এবং ২০২৫ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই আরও ৬৬৬টি চুরি হওয়া গাড়ি আটক করে। বিমা খাতের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্টারিওতে গাড়ি চুরি প্রায় ২২ শতাংশ এবং কুইবেকে ২৫ শতাংশ কমেছে। তবে এখনো প্রায় অর্ধেক চুরি হওয়া গাড়ি উদ্ধার করা যায়নি, যা ইঙ্গিত দেয় অনেক গাড়িই বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে, অথবা বিচ্ছিন্ন করে বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযানের পরও গাড়ি চুরি বন্ধ না হওয়ায় কারণ, অপরাধ চক্র এখনো সক্রিয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর চুরির কৌশল আরও উন্নত হচ্ছে।
.কানাডার ক্রিমিনাল ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, শুধু অন্টারিও ও কুইবেকেই অন্তত ৬৩টি সংগঠিত অপরাধ চক্র গাড়ি চুরি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে শনাক্ত হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণত চলমান তদন্তের স্বার্থে এসব চক্রের সব নাম প্রকাশ করে না। কানাডায়, বিশেষ করে কুউবেক ও অন্টারিওতে গাড়ি চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পর অনেক বিমা কোম্পানি উচ্চঝুঁকির কিছু মডেলের গাড়ির মালিকদের অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে বলছে। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় গাড়ির মালিককেই নিজ খরচে সুরক্ষাব্যবস্থা বসাতে হয়।
বিশেষজ্ঞ মেকানিক্যাল প্রকৌশলীরা গাড়িমালিকদের কিছু অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। যেগুলো এখন অনেক ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানিগুলোও সুপারিশ করছে। ব্যবস্থাগুলো হলো: অনুমোদিত ইমোবিলাইজার, যা সঠিক চাবি বা কোড ছাড়া ইঞ্জিন চালু হতে দেয় না। ট্যাগ ট্যাকিং সিস্টেম—গাড়িতে গোপন ‘RFID’ ট্যাগ বসানো হয়, যাতে চুরি হলে পুলিশ দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধার করতে পারে। রিয়েল-টাইম অবস্থান ট্র্যাক করার ব্যবস্থা চালু করা।
সরকার এখন বলছে, লক্ষ্য শুধু চোর ধরাই নয়, গোটা আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের অর্থায়ন ও রপ্তানি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া। এটি একটি আন্তপ্রাদেশিক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ। স্থানীয় পুলিশ, প্রাদেশিক পুলিশ, ফেডারেল পুলিশ, সীমান্ত সংস্থা ও বিদেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় ছাড়া পুরো চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। তবে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় থাকা নাগরিকেরা চায় গাড়ি চুরি বন্ধসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি যেন হয় অচিরেই। নিরাপদ কানাডার সুনাম যেন কোনোভাবেই তলানিতে না যায়।
.দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]






