পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা নিয়ে শিক্ষা বোর্ডে জমা না দেওয়ার অভিযোগে নাটোরের লালপুরের আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর প্রতারণার কারণে আট পরীক্ষার্থী গত বৃহস্পতিবার এইচএসসির প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তবে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ ব্যবস্থায় আজ শনিবার তাঁরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

লালপুর থানা, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান, সবুজ আহম্মেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, মোহাম্মদ শিমুল, মোহাম্মদ শাওন, মোহাম্মদ সাব্বির ও তানভির হোসেন এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাঁদের ফরম পূরণের দায়িত্বে ছিলেন কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার। এ জন্য তিনি তাঁদের কাছ থেকে টাকাও নিয়েছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর এক দিন আগে সবার প্রবেশপত্র কলেজে এলেও তাঁদের প্রবেশপত্র আসেনি। পরে পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা বোর্ডকে জানান। এরপর বিষয়টি আলোচনায় আসে। অভিযুক্ত অমিত কুমার সরকার গা ঢাকা দেন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে। বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর নজরেও আনা হয়। দুপুরের মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর বোর্ড কর্তৃপক্ষ কলেজের অধ্যক্ষকে কল করে বঞ্চিত পরীক্ষার্থীদের শনিবারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেন। পরে অধ্যক্ষ ওই শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানান।

এদিকে জেলা পুলিশের নির্দেশে লালপুর থানা-পুলিশ গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। রাতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। আজ শনিবার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মামদুদুর রহমান বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের আজ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষা বোর্ড বিশেষ বিবেচনায় তাঁদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইফফাত জেরিন বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র পাঠানো হয়েছে। তাঁরা বাকি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। প্রথম পরীক্ষার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে।