নিউইয়র্কে এসে হিউস্টনে গিয়ে ব্রাজিলের ম্যাচ দেখলাম। মাঝখানে সান ফ্রান্সিসকোতে যুক্তরাষ্ট্র-বসনিয়া ম্যাচ দেখে গতকাল মায়ামিতে এসেছি। এসে যা দেখছি, এককথায় তা অবিশ্বাস্য। আমি আসার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই বুঝতে পারলাম পুরো শহরটি এখন আর্জেন্টিনার দখলে।
সব আর্জেন্টিনার সমর্থক, একজনও কেপ ভার্দের সমর্থক আমার চোখে পড়েনি। আমি যে হোটেলে উঠেছি, সেখানে প্রায় সবাই আর্জেন্টিনার সমর্থক। পথে বের হলে আকাশি-সাদা জার্সি ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ছে না। একজন ফুটবলার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এই ফুটবল-উন্মাদনা দেখে আমি সত্যিই অভিভূত।
এখানে অনেক আর্জেন্টাইনসহ লাতিন মানুষ আছে। মনে হচ্ছে মায়ামি নয়, আমি লাতিন আমেরিকার কোনো শহরে আছি। এখানকার বেশির ভাগ মানুষ স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে, এমনকি হোটেলের রিসেপশনের লোকজনেরও দেখছি ইংরেজি বলতে সমস্যা হয়।
.সবচেয়ে ভালো লাগছে, আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা আমি এবং আমার সঙ্গীদের জিজ্ঞেস করেছেন—‘তোমরা কোথা থেকে এসেছ?’ বাংলাদেশ, বলার পর যখন তাঁদের চোখেমুখে এক অদ্ভুত আনন্দ ফুটে ওঠে। তাঁরা বারবার ‘থ্যাংক ইউ’, ‘থ্যাংক ইউ’ বলে কৃতজ্ঞতা জানান।
বাংলাদেশিদের ফুটবলের প্রতি এই ভালোবাসা দেখে এক আর্জেন্টাইন সমর্থক তো আমাকে কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার একটি ছবিও উপহার দিয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন করেছিলাম, ‘তোমরা ম্যারাডোনা না মেসিকে বেশি ভালোবাসো?’ উত্তর এল—‘দুজনকেই।’ এটাই হয়তো স্বাভাবিক।
.আর্জেন্টিনার শেষ ৩২-এর ম্যাচ কেপ ভার্দের সঙ্গে। এখানে আর্জেন্টিনার যেসব সমর্থকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে সবার মধ্যেই দেখলাম, বিশাল জয়ের প্রত্যাশা। কেউ কেউ বলছেন ৩-০, কেউ ৪-০, এমনকি কেউ ৫-০-ও বলেছেন।
তবে আমার বিশ্লেষণ বলছে, ম্যাচটি অতটা সহজ হবে না। কেপ ভার্দে স্পেনের মতো দলের সঙ্গে ড্র করেছে। আর্জেন্টিনার সঙ্গেও সম্ভবত ওরা ‘লো ব্লক’ ডিফেন্স করবে। স্পেন ম্যাচে কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনিয়া যে পারফরম্যান্স করেছেন, সেই খেলাটা আবারও খেলতে পারলে আর্জেন্টিনাকে আটকে দেওয়া কঠিন নয়।
.১৬ বছর পর নকআউটে জয়ের দেখা স্পেনের.আমার ধারণা, কেপ ভার্দে প্রতি-আক্রমণের অপেক্ষায় থাকবে। আর সেট পিস পেলে সেটা কাজে লাগাতে চাইবে। কিন্তু ধারেভারে অনেক এগিয়ে আর্জেন্টিনা। আমাকে ভবিষ্যদ্বাণী করতে বললে বলব, আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে জিতবে। আর্জেন্টিনা ম্যাচের শুরুতেই গোল পেয়ে গেলে খেলাটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। কারণ, প্রতিপক্ষ তখন আক্রমণে যেতে বাধ্য হবে আর তাতে মেসিরা খেলার জন্য আরও বেশি জায়গা পাবেন।
আমি কয়েকজন আর্জেন্টাইন সমর্থককে বললাম, ‘আর্জেন্টিনা হারলে সম্ভবত একটিই মেসির শেষ ম্যাচ হয়ে যাবে।’ এটা বলার পর তাঁরা একটু মন খারাপ করেছেন এবং বলেছেন, মেসি থাকবেন। তাঁদের বিশ্বাস, আর্জেন্টিনার হারের কোনো শঙ্কা নেই।
.আর্জেন্টিনার জন্য সুখবর হলো, তাদের মূল খেলোয়াড়েরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন। জর্ডানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে আর্জেন্টিনা একাদশে ৯ জন খেলোয়াড়কে বাইরে রেখেছিল। নিয়মিত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজই শুধু ছিলেন একাদশে।
ম্যাকঅ্যালিস্টার, রদ্রিগো দি পল, এনজো ফার্নান্দেজরা গত ম্যাচে বিশ্রামে থাকায় সতেজ হয়ে মাঠে নামবেন কেপ ভার্দে ম্যাচে। মেসিও গত ম্যাচে অল্প সময় খেলায় তিনিও বেশ সতেজ আছেন। আমি মনে করি, স্কালোনি ভালো কাজ করেছেন গত ম্যাচে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়ে।
.ব্যক্তিগতভাবে আমি ব্রাজিলের সমর্থক। হিউস্টন গিয়ে ব্রাজিলের শেষ ৩২-এর ম্যাচটা মাঠে বসে দেখেছিলাম হলুদ জার্সি পরে। সেই ম্যাচে ব্রাজিল প্রথমার্ধে ভালো খেলতে পারেনি। জাপান গোল করে যে আনন্দ করেছে, তা ছিল দেখার মতো।
.কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বেশ ভালো খেলেছে ব্রাজিল। এই অর্ধে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশল কাজে লেগেছে। তাঁর খেলোয়াড় বদলগুলো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-বসনিয়া ম্যাচও দেখেছি মাঠে বসে। যুক্তরাষ্ট্র ভালো খেলে জিতেছে। মায়ামি এখন মেসির দ্বিতীয় বাড়ির মতো। এখানে তাঁর বাড়ি আছে, স্থানীয় সবকিছু তাঁর জানা। ফলে স্থানীয়দের সমর্থনও পাবেন। আর্জেন্টিনার কোনো জার্সি নেই আমার।
তবে আমার বন্ধুর কাছ থেকে যদি একটা পাই তাহলে সেটি পরতে সমস্যা কী? আমি পরব। কারণ, আমি তো একজন ফুটবল ফ্যান। ব্রাজিলের সমর্থন করলেও আমি মেসির অনেক বড় ভক্তও। আরেকটি মেসি-জাদুর অপেক্ষায় থাকলাম।
বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক
.আকাশে তাকিয়ে কাকে খুঁজলেন রোনালদো





