ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, একটা সময়ে পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চক্রান্তও চলছিল। তখন ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু সেই সময় রুখে দাঁড়িয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকেলে হুগলির তারকেশ্বরে মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মোদি এ কথা বলেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই বাংলার মানুষ দাঙ্গা, বিভাজন, রক্তপাতের ঘটনার কথা ভোলেনি। ভোলেনি কলকাতা আর নোয়াখালীর দাঙ্গার কথা। আর সেদিন এই বাংলার বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি। এবার সেই বীরের সম্মানে এই রাজ্যে তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে তৈরি হবে বিশাল মূর্তি। স্মরণ করা হবে তাঁর অবদানকে।

এ সময় নরেন্দ্র মোদি বলেন, কংগ্রেস, বাম দল এবং তৃণমূলের আমলেই এই বাংলায় অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এবার বাংলার সীমান্তকে রক্ষার জন্য কাঁটাতারের অসমাপ্ত বেড়ার কাজ শুরু হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে। আজ এই বাংলা পরাধীনতার শিকলমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের অতীত গৌরব ফিরে আসছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আজ স্বাধীন। পরাধীনতা থেকে শিকলমুক্ত। স্বচ্ছতা থাকলে উন্নয়ন হবেই। সেই লক্ষ্য নিয়ে এই বাংলার ডবল ইঞ্জিন সরকার এগোচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের আজকের অনুষ্ঠানে মোদি ছাড়াও ভাষণ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনিও জোর দিয়ে বলেন, এবার এই রাজ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্বপ্নের সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকার দিল্লির সরকারকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাবে। এই বাংলাকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যের সংগীতশিল্পী, বাউল থেকে শুরু করে ছৌ নাচ শিল্পীরা। সন্ধ্যায় কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাট থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত এলাকায় হুগলি নদীতে ছিল জাহাজ ও ৪০০ লঞ্চ নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও ড্রোন শো।

যোগ দিবসে কলকাতার রেড রোডে যাবেন মোদি

রোববার পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। এবারের এই যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে কলকাতার রেড রোডে। সেই অনুষ্ঠানে ভোরে যোগ দেবেন নরেন্দ্র মোদি।

রেড রোডের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নয়াদিল্লিতে ফিরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে কলকাতায় নৌবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করবেন তিনটি যুদ্ধজাহাজ।