সৌদি আরবের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কাউস্ট) ২০২৬-২৭ সেশনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় বৃত্তির ঘোষণা দিয়েছে। সংক্ষেপে কাউস্ট নামে পরিচিত এই গবেষণাধর্মী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০০৯ সালে সৌদি আরবসহ বিশ্ববাসীর জন্য বিজ্ঞানের আবিষ্কার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অবকাঠামোর উন্নতির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা কিং আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল-সউদ বলেছিলেন, “কাউস্ট হবে সৌদি আরব ও বিশ্বমানবতার ভবিষ্যতের শান্তি, আশা ও পুনর্গঠনের দিশারী।”
কাউস্টের গবেষণা ও অবকাঠামো উন্নয়ন অব্যাহত রাখার জন্য কিং আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল-সউদ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যুক্তরাষ্ট্রের একটি নামকরা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডে বিনিয়োগ করেছিলেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিবছর এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার মুনাফা পায়, যা দিয়ে বার্ষিক ব্যয় মেটানো হয়। ২০২৫ সালে বিনিয়োগের দিক থেকে বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কাউস্ট ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। সমৃদ্ধ অত্যাধুনিক গবেষণাগার এবং বিশ্বখ্যাত অধ্যাপকদের সান্নিধ্যের কারণে অনেক শিক্ষার্থী এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘এমআইটি’ বলে অভিহিত করেন। লোহিত সাগরের তীরবর্তী এই প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য বৃত্তির সুযোগ রয়েছে।
সুযোগ-সুবিধা—
—এটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত বা ‘ফুল-ফান্ডেড’ প্রোগ্রাম।
—নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার যাবতীয় ব্যয়ের অর্থ পাবেন।
—কোনো আবেদন ফি নেই।
—প্রতিবছর ২০ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২৪ থেকে ৩৬ লাখ টাকা) জীবনযাত্রা উপবৃত্তি দেওয়া হবে, যা প্রার্থীর যোগ্যতা ও ডিগ্রির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
—আধুনিক আবাসন বিনা মূল্যে।
—মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কভারেজ (শারীরিক সুস্থতার বিবেচনায়)।
—বিমানে আসা-যাওয়ার খরচ।
আবেদনের যোগ্যতা—
কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটির বৃত্তির জন্য যে কেউ আবেদন করতে পারবেন। মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য ন্যূনতম স্নাতক বা ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে। পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য মাস্টার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক। আবেদনকারী একাডেমিক ক্ষেত্রে চমৎকার ফলাফলের অধিকারী ও মার্জিত আচরণের হতে হবে। বৃত্তির চলাকালে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎস থেকে বৃত্তি নেওয়া যাবে না।
প্রয়োজনীয় তথ্য—
—বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিশিয়াল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট।
—নিজের লক্ষ্য ও গবেষণার উদ্দেশ্যসংবলিত ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস’।
—শিক্ষাগত ও পেশাগত অর্জনের বিস্তারিত বিবরণসহ হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত।
—পাসপোর্টের বৈধ কপি।
—তিনজন শিক্ষক বা সুপারভাইজরের কাছ থেকে তিনটি সুপারিশপত্র।
—ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে টোয়েফলে ন্যূনতম ৮১ স্কোর অথবা আইইএলটিএসে ৬.৫ স্কোর।
আবেদন পদ্ধতি—
আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ সময়: ১১ এপ্রিল, ২০২৬।






