দেশের অর্থনীতি জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সূচকগুলো খুব একটা উজ্জ্বল নয়। তবে প্রবাসী আয়ের সূচকটি বেশ ভালো দেখাচ্ছে। কিন্তু এই ভালো লক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। যুদ্ধের কারণে দেশে ফিরতে হতে পারে বলে প্রবাসীরা কি সঞ্চয় পুরোপুরি পাঠিয়ে দিচ্ছেন, তা ভাবনার বিষয়। কোভিডের সময় এমনটাই ঘটেছিল।

আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় আওয়ামী লীগের আমলে। তখনই রাজস্ব খাত ও ব্যাংক খাত সংস্কারের শর্ত ছিল। পরে এল অন্তর্বর্তী সরকার, যা অনেক ক্ষেত্রে পারেনি। তবে ইতিবাচক দিক হলো, উভয় খাতের জন্য এই সরকার দুটি অধ্যাদেশ জারি করে গেছে।

আইএমএফের চলমান কর্মসূচির আওতায় জ্বালানি তেলের মূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হওয়ার কথা। এ মাসে তা হয়নি। যদিও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি সমন্বয়ের পক্ষে। ইতিমধ্যে সম্পাদিত সংস্কার থেকে পিছু হটলে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে।

ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, যার অধীনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক হয়েছে। সরকার এতে ২০ হাজার কোটি টাকাও দিয়েছে। অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হওয়া জরুরি। আইন না হলে আগের মালিকপক্ষের আদালতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রেজোল্যুশন অধ্যাদেশটিকে সংশোধন করে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বিলোপ করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুই বিভাগ করার অধ্যাদেশটি ছিল রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশের কম। চলতি অর্থবছর শেষে তা উন্নত হওয়ার লক্ষণ কম। আইএমএফের চলমান ঋণ কর্মসূচিতে কর-জিডিপি হার বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি ছিল। পাশাপাশি করছাড় কমানোর কথাও ছিল। নিশ্চয়ই এসব নিয়ে আইএমএফের বৈঠকে প্রশ্ন উঠবে। আবার শোনা যাচ্ছে, আইএমএফ থেকে বাড়তি অর্থও চাওয়া হবে।

সংস্কার না হলে অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে। চলতি মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক রয়েছে। এ বৈঠকে এক কথা বলে এলাম, জুনে বাজেট করার সময় মত পাল্টে আরেকটা করে ফেললাম, তা করলে ঋণ কর্মসূচিটি ঝুলে যেতে পারে। আইএমএফের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়া দলটি অনুমান করতে পারছে কি না জানি না। সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়তি অর্থ চাইলে বাড়তি শর্তের মধ্যেও ঢুকতে হবে।

জাহিদ হোসেন: সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংক, ঢাকা কার্যালয়