চীন শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সব প্রাদেশিক অঞ্চলের প্রাথমিক ও জুনিয়র হাইস্কুলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রতিদিন অন্তত ২ ঘণ্টা শরীরচর্চা কার্যক্রম চালু করা হবে।

গত শুক্রবার চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য একটি নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এই নীতিমালায় স্কুলগুলোকে অতিরিক্ত বাড়ির কাজ দেওয়া এবং ছাত্রছাত্রীদের বিরতির সময়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক উইচ্যাট বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্কুলগুলোকে ঘন ঘন পরীক্ষা আয়োজন এবং ‘শিক্ষার্থীদের ওপর পড়াশোনার বোঝা’ বাড়ানো থেকে নিষেধ করা হয়েছে। এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে যখন কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ কমাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা দেশের সেই চিরাচরিত মনোভাব থেকে সরে আসছে, যেখানে শিশুদের কঠোর অধ্যয়ন করে ভালো ফলাফল করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চীনের স্কুলগুলোতে বাড়ির কাজের অতিরিক্ত চাপ একটি সাধারণ ঘটনা, যার ফলে ঘুমের অভাব এবং উদ্বেগ ও নানা বিষণ্ণতা বৃদ্ধি পায়। গত বছরের নভেম্বরে চীন জানিয়েছিল, স্কুলগুলোকে অবশ্যই বাড়ির কাজের মোট পরিমাণ ‘কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করতে হবে এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন স্কুলে ‘অন্তত’ দুই ঘণ্টা শরীরচর্চা কার্যকলাপের সুযোগ দিতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানপদ্ধতি গ্রহণ করা বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম আগেভাগে পড়াতে পারবে না কিন্ডারগার্টেনগুলো।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রী নির্বাচনের উদ্দেশ্যে যেকোনো ধরনের পরীক্ষা আয়োজন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়াদের নিয়ে নানা প্রচারণায় এবং শিক্ষকদের পুরস্কৃত বা শাস্তি দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়গুলোকে কোনোভাবেই ছাত্রছাত্রীদের বিরতির সময়ে হস্তক্ষেপ করা বা বিরতির সময় তাদের শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করতে নিষেধ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

চীন গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ঐতিহ্যবাহী ছুটির পাশাপাশি স্কুলগুলোতে বসন্ত ও শরৎকালীন ছুটি চালুর ঘোষণা দেওয়ার পর এই বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়েছে।