সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার অদম্য মেধাবী রনি আহমেদ রাসেল ৪৭ তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। গত রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল থেকে বিষয়টি জানা যায়। সোমবার (২৯ জুন) মুঠোফোনে কথা হয় রনি আহমেদ রাসেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি ব্র্যাক ব্যাংক-মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া একজন শিক্ষার্থী ছিলাম।
২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হই। পারিবারিক অসচ্ছলতার মধ্যেও বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হই। এ সময় মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের এই বৃত্তি আমাকে ও পরিবারকে অনেকখানি চিন্তামুক্ত হতে সহায়তা করে।
২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হই। ভর্তির সুযোগ পাই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভেটেরিনারি অনুষদ থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং একই অনুষদের মেডিসিন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পুরো সময়টা মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের এই বৃত্তি আমাকে সহায়তা করে।
গত মার্চ মাস থেকে সোনালী ব্যাংক পিএলসি জয়পুরহাট সদরের হাতিল শাখায় অফিসার (জেনারেল) হিসাবে কর্মরত আছি। এ ছাড়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিতে অফিসার (ক্যাশ) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে আছি।
৪৭ তম বিসিএস এ আমি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।
রনি আহমেদ রাসেল উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের ক্ষুদ্র মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. ফজলুল হক ও গৃহিণী মোছা. আজমিয়ারা বেগম দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে বড়। রনি আহমেদ রাসেলের ভাই মো. রবিন শেখ সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে ইতিহাস বিভাগের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। আরেক ভাই মো. রুহান আহমেদ ঝাপড়া কাজিপুর আবদুল মান্নান উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
রনি আহমেদ রাসেল বলেন, আমি ২০১৫ সাল থেকে মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত। শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ট্রাস্টের নিয়মিত বৃত্তি আমার জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা ছিল। এই সহায়তার ফলে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে পেরেছি এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। ব্র্যাক ব্যাংক ও মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আজ ৪৭ তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হতে পারার পেছনে মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবানি, পরিবার, শিক্ষক, ব্র্যাক ব্যাংক এবং মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের এই সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
তার মা মোছা. আজমিয়ারা বেগম ও বাবা মো. ফজলুল হক ছেলের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বলেন, ছেলেটা অনেক চেষ্টা করে পড়ালেখা শেষ করেছে, এখন ব্যাংকে চাকরি করছে। আবার বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে। আগামী দিনে আরও ভালো কিছু করবে এমন আশা প্রকাশ করে তারা সকলের দোয়া কামনা করেন।
ঝাপড়া কাজিপুর আবদুল মান্নান উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মান্নান সরকার বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো কোনো খবর পেলে অনেক আনন্দ লাগে। আগামী দিনে রনি আহমেদ রাসেলের মতো আরও অনেক অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী সাফল্য অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এসব অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে বরাবরের মতো মুক্তকণ্ঠ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।






