আজাদ প্রোডাক্টস প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের কৃতী মায়েদের ‘রত্নগর্ভা মা’ সম্মাননা দিয়েছে। এবার সাধারণ ক্যাটাগরিতে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার তাহমিনা বেগম চৌধুরী এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেছেন। তাঁর এই সাফল্য এখন পরিবার ছাড়িয়ে সমস্ত এলাকার জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সাধারণ ক্যাটাগরিতে ২৫ জন এবং বিশেষ ক্যাটাগরিতে ১০ জন মাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে আয়োজকেরা বলেন, সন্তানদের যুগোপযোগী, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মায়েরা যে নেপথ্য ভূমিকা পালন করছেন, তার স্বীকৃতি হিসেবেই এ আয়োজন।
তাহমিনা বেগম চৌধুরীর জীবনপথ ছিল কঠিন। স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও পারিবারিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তিনি হাল ছাড়েননি। ৯ সন্তানের ভরণপোষণ ও শিক্ষার খরচ চালাতে তিনি অবিরাম সংগ্রাম করেছেন। নিজে মেধাবী হওয়ায় শিক্ষার মূল্য তিনি জানতেন। তাই সন্তানদের সুশিক্ষিত, নৈতিক গুণসম্পন্ন ও দেশপ্রেমিক করে গড়ে তুলতে তিনি কখনো আপস করেননি।
তাঁর সেই সংগ্রামের ফল সুন্দরভাবে এসেছে। ৯ সন্তানই উচ্চশিক্ষা নিয়ে এখন রাষ্ট্রীয় ও পেশাগত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। এই অভাবনীয় সাফল্যের জন্য স্থানীয়ভাবে তিনি ‘গর্বিত জননী’, ‘ম্যাজিস্ট্রেটের মা’, ‘কমিশনারের মা’ বা ‘নিউজ কন্ট্রোলারের মা’ নামে পরিচিত।
আগে ২০২১ সালে বুড়িচং উপজেলায় সফল জননী ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ‘জয়িতা’ নির্বাচিত হয়েছিলেন তাহমিনা বেগম। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দেশের শ্রেষ্ঠ ‘রত্নগর্ভা মা’ হওয়া তাঁর জীবনসংগ্রামের বিশেষ স্বীকৃতি।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]






