ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত নারী শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল এবং সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু জল জমে যায়। দীর্ঘদিনের অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বৃষ্টির পর রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে যোগ দিতে পারেন না।

এই এলাকায় ই-কার্ট ও বাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ফলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং তারা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বৃষ্টির সময় রিকশা সংকটও বড় সমস্যা। রিকশা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, পেলেও স্বাভাবিক ভাড়ার দ্বিগুণের বেশি দাবি করা হয়।

নিউমার্কেট সংলগ্ন রাস্তার পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। রাস্তার পাশে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় এবং অনেকে এটিকে স্থায়ী পাবলিক টয়লেট হিসেবে ব্যবহার করে, ফলে সারাক্ষণ দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণ দিনেও চলাচল কষ্টকর, বৃষ্টিতে ময়লা-পানি মিশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় যা রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের নিচতলার কক্ষে পানি ঢোকে, যা সেখানকার শিক্ষার্থীদের জানমাল ও বসবাসকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

জলাবদ্ধতা, দুর্বল অবকাঠামো, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও যাতায়াত সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে। এত দুর্ভোগ সত্ত্বেও প্রশাসনের উদাসীনতা অব্যাহত। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বৃষ্টির সময় বিশেষ শাটল বাস বা ই-কার্ট সার্ভিস বাড়ানো, রিকশাভাড়া নিয়ন্ত্রণে তদারকি এবং রাস্তার ময়লা-দুর্গন্ধ দূর করতে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ প্রয়োজন। প্রশাসনের সদিচ্ছা ও দ্রুত পদক্ষেপই শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান দিতে পারে।

লেখক: তানজিলা আক্তার, শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]