ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ও রোকেয়া হল–সংলগ্ন রাস্তায় দুটি জেব্রা ক্রসিং রয়েছে। প্রতিদিন রোকেয়া হলের প্রায় এক থেকে দেড় হাজার শিক্ষার্থী ক্লাসে যাওয়ার জন্য এই জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করেন। এছাড়া এই রাস্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সংলগ্ন হওয়ায় ক্যাম্পাসের অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত চলাচলে এগুলো ব্যবহার করেন। কিন্তু এখানে ঘটছে চরম অনিয়ম।

দু–দুটি জেব্রা ক্রসিং থাকা সত্ত্বেও চালকরা নিয়ম মানেন না। তাঁদের মধ্যে ব্যাপক অবহেলা লক্ষণীয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পথচারী হিসেবে নিরাপত্তা চরম বিপন্ন হয়। রাস্তা পার হওয়ার সময় তাঁদের বুকের মধ্যে অজানা আতঙ্ক কাজ করে। বিশেষ করে উচ্চগতিতে ছুটে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, বেপরোয়া মোটরবাইক, প্রাইভেট কার এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসও জেব্রা ক্রসিংয়ে গতি না কমিয়ে চলে যায়। কখনো কখনো কর্কশ হর্ন বাজিয়ে পথচারীকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

অনেক সময় চালকরা সমান গতিতে চলতে চলতে ধমকের সুরে পথচারীদের দ্রুত রাস্তা পার হওয়ার নির্দেশ দেন। সকাল-বিকেল রাস্তার অর্ধেক দখল করে রিকশা। শিক্ষার্থীরা যেন সেখানে সংখ্যালঘু!

এই বিশৃঙ্খলার জন্য কর্তৃপক্ষের অবহেলা মূল দায়ী। তা ছাড়া চালকদের উদাসীনতা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতাও অন্যতম কারণ। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত রাস্তা পারাপারে ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র অত্যন্ত শোচনীয়, যা প্রতিবছরের প্রতিবেদন থেকেই স্পষ্ট।

কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত প্রশ্ন, এই জেব্রা ক্রসিং কি শুধুই রাস্তার ওপর সাদা–কালো কালির অপচয়? নাকি নিয়মের নামে সাদা-কালো কালির কলঙ্ক? প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীর দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এসেও রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে চলতে হয়। সামান্য জেব্রা ক্রসিংয়ের নিয়মেই যদি দেখা যায় এমন দুরবস্থা, তাহলে শিক্ষার্থীদের অন্যান্য নিরাপত্তার ক্ষেত্র তো কেবলই দুঃস্বপ্ন! শিক্ষার্থীরা কি আদৌ ভীতিহীন মনে পা বাড়াতে পারবে ঢাবির রাস্তায়?

ভীতিহীন, ঝুঁকিমুক্ত, নিরাপদ ক্যাম্পাস তো সব শিক্ষার্থীরই কাম্য। কাজেই কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন, রোকেয়া হলের সামনের এই বিশৃঙ্খলার নিরসন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চালক ও পথচারী উভয়ের মধ্যেই সচেতনতা বৃদ্ধি অতীব জরুরি।

*লেখক: মোসা. রায়হানা তাসনিম নূরি, শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]