বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীরে ক্লাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখার এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের বাস্তবতা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শহরের তুলনায় গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো প্রযুক্তিগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অনেক পরিবারে একটি মোবাইল ফোনই একমাত্র উপায়, যা দিয়ে একাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত অনলাইন ক্লাস করতে পারে না। এর সঙ্গে যুক্ত দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ এবং বিদ্যুৎ সমস্যার মতো বাধাও রয়েছে।

অভিভাবকদের ক্ষেত্রেও সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক গ্রামীণ অভিভাবক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ নন, ফলে সন্তানরা অনলাইন ক্লাসে অংশ নিচ্ছে কিনা তা তদারকি করা তাদের পক্ষে কঠিন। এতে অনলাইন ক্লাসের সুযোগ অপব্যবহারের আশঙ্কা দেখা দেয়। ইতিমধ্যে কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে অনলাইন গেমিং বা অন্যান্য আসক্তির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা তাদের পড়াশোনা থেকে অনীহা তৈরি করছে।

এছাড়া গ্রামাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকে। অনেকে পড়াশোনা ফাঁকি দিয়ে আড্ডা বা ঘুরে বেড়ায়। অনলাইন ক্লাসে সরাসরি তদারকির অভাবে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে অভিভাবক ও শিক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষকদের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গ্রামীণ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস পরিচালনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা এখনো গড়ে ওঠেনি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ক্লাসগুলো আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

সামগ্রিকভাবে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে শিক্ষা চালানোর এই উদ্যোগ সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা বিবেচনায় আরও বাস্তবসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনা প্রয়োজন। অন্যথায় এটি শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]