
বুদ্ধির মুক্তির অবিচল পথিক
মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও তার ভাবাদর্শ অবলম্বন করে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও ‘শিখা’ পত্রিকা প্রকাশের শত বছর পূর্ণ হলো ২০২৬ সালে। পাশাপাশি অধ্যাপক আবুল ফজলের জন্মদিন ছিল ১ জুলাই। এ উপলক্ষে তাঁর পুত্রের স্মৃতিচারণা।
এই বিভাগের সকল সংবাদ

মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও তার ভাবাদর্শ অবলম্বন করে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও ‘শিখা’ পত্রিকা প্রকাশের শত বছর পূর্ণ হলো ২০২৬ সালে। পাশাপাশি অধ্যাপক আবুল ফজলের জন্মদিন ছিল ১ জুলাই। এ উপলক্ষে তাঁর পুত্রের স্মৃতিচারণা।

পরদিন তিনি ওয়াহিদুল গনিকে সঙ্গে করে নড়াইল গেলেন। অনেক খুঁজে পেতে জাহান ভূ-চিত্রাবলী আর কত দেশ, কত দিগন্ত কিনলেন। ওয়াহিদুল গনি অকৃতদার, তদুপরি বিশ্বপর্যটক। শীতের মৌসুমে সাইকেল নিয়ে নড়াইল নয়তো দৌলতপুর চলে যান। যখন ফিরে আসেন, বাবলুর জন্য কত কী যে নিয়ে আসেন—পেন্সিল শার্পনার, স্ট্যাপলার, কলম। ছেলেটির আবার এসব জিনিসে দারুণ শখ। বাবলু—আবুল কালামের ছেলে—বাবাকে বলে, বাবা, তুমি যখন নড়াইল-টড়াইল যাও, গনি চাচার সঙ্গে যাবে, আর কারও সঙ্গে না। ব্যস। বুঝেছো?

সেই অর্থে এই প্রদর্শনীকে বলা যায় জাগতিক ও মহাজাগতিকের মধ্যে এক সৃজনশীল সেতুবন্ধের শিল্পভাষা। রাজধানীর সফিউদ্দিন শিল্পালয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী শিল্পগুরু সফিউদ্দিন আহমেদের ১০৪তম জন্মবার্ষিকীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। তবে এই শ্রদ্ধা নিছক আনুষ্ঠানিক নয়; বরং একজন শিল্পীর আত্ম–অনুসন্ধানী যাত্রার মধ্য দিয়ে আরেক শিল্পগুরুকে স্মরণ। গত ২৬ জুন শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি ৫ জুলাই পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে।

এখন এ ঘটনার রাজনৈতিক কাঠামোটিকে আরও স্পষ্টভাবে দেখা দরকার। সক্রেটিসের মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, এটি ছিল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ফল। এ প্রক্রিয়ার নাম দেওয়া যায় ‘দোষারোপের রাজনীতি’ বা পলিটিকস অব স্কেপগোটিং (বলির পাঁঠা বানানোর রাজনীতি)। প্রতিটি শাসন পরিবর্তনের পর একটি নতুন শাসন তার বৈধতা প্রমাণ করতে চায় পুরোনো শাসনের সঙ্গে যুক্ত কাউকে শাস্তি দিয়ে। কিন্তু যখন আইনি জটিলতায় প্রত্যক্ষ অপরাধীদের ধরা যায় না, তখন দরকার হয় প্রতীকী শিকারের। সক্রেটিস সেই প্রতীক হয়েছিলেন কয়েকটি কারণে।

১৯৯৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ। জুলাই মাসের এক ভোর। টাইব্রেকারের শেষ শটটি জালে জড়াতেই হৃদপুর বন্দরের রাস্তায় নেমেছিল ব্রাজিল ফুটবল উৎসব। মিছিলটা বেরিয়েছিল তৈবরদার বাড়ির সামনে থেকে। সামনে তবারক কাকু। পরনে ক্যানারি হলুদ জার্সি। হাঁটু পর্যন্ত হাফপ্যান্ট। পায়ে ফুটবল বুট। দুই হাতে বুকের কাছে আগলে রাখা একটি ফুটবল। দেখে মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপটা রোমারিও নয়, তিনিই জিতে ফিরেছেন।

মালয়েশিয়াকে নিয়ে লেখা ইংরেজি ভাষার অনেক জনপ্রিয় বই আছে। তবে সেসব বইয়ে ঘুরেফিরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও জাপানি দখলদারির গল্প আসে; কিন্তু আজকের মালয়েশিয়াকে বুঝতে চাইলে অতীতের গল্পে পড়ে থাকলে চলবে না। দেশটির সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবন অনেক বদলে গেছে। সেই পরিবর্তনের গল্পও উঠে এসেছে সমসাময়িক লেখকদের বইয়ে। মালয়েশিয়াকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ দেয়, এমন চারটি বইয়ের খোঁজ জেনে নিন।

বিচারপতি পালের রায়ের তাৎক্ষণিক প্রভাব আদালতে সীমিত হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রতিক্রিয়া ছিল সুদূরপ্রসারী। ১৯৫২—১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের ‘ইন্টারন্যাশনাল ল কমিশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর রায়ই প্রথমবারের মতো বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছিল—যুদ্ধাপরাধের বিচারে একটি স্থায়ী, নিরপেক্ষ ও সুসংগত আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো দরকার। এই উপলব্ধি থেকেই পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ধারণা বিকশিত হয়।

কিন্তু একদিন, ঠিক দুপুর বারোটা তেইশ মিনিটে এক আশ্চর্য কাণ্ড ঘটল। আকাশটা হঠাৎ একদম নীল হয়ে গেল। কোনো মেঘ নেই, কোনো পাখির ডাক নেই। এক গভীর নিস্তব্ধতা। অয়নের মনে হলো, তার কানের ভেতর কেউ যেন খুব জোরে একটা ঘণ্টা বাজিয়ে দিল। ঠিক সেই মুহূর্তে সে ওপাশের দাউদের চোখের দিকে তাকাল। একটা প্রশ্ন তার মাথার ভেতরে পোকার মতো কামড়াতে শুরু করল—‘আমি কেন এখানে? ও কেন ওখানে? আমাদের মাঝখানে এই লোহার কাঁটাতার কেন? কাঁটাতারের ওপারের মানুষটি সত্যিই কি আমার শত্রু?’

জনপ্রিয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সাইমন অ্যান্ড শুস্টার তাদের ছয় হাজারের বেশি বই চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নির্মাতাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি হলিউডভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ব্ল্যাক লিস্টের সঙ্গে নতুন একটি অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে। এ উদ্যোগের ফলে ব্ল্যাক লিস্টের অনলাইন ডেটাবেজে সাইমন অ্যান্ড শুস্টারের হাজারো বইয়ের তথ্য যুক্ত হবে। নির্মাতা, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকারেরা সহজেই বইগুলো খুঁজে দেখে সেগুলো থেকে চলচ্চিত্র বা টিভি সিরিজ নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করতে পারবেন।

শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার গতকাল ২৯ জুন রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। গত বছর ৩ আগস্ট তাঁর এই সাক্ষাৎকার নেন এস এম রাকিবুর রহমান।

সে একদিন গেছে বটে। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা। টক-ঝাল-মিষ্টি। আরও কত স্বাদের! আমি আর মসিহউদ্দিন শাকের মিলে সূর্য দীঘল বাড়ীর স্ক্রিপ্ট জমা দিলাম ১৯৭৬ সালে। সরকারি অনুদান পেলাম ১৯৭৭ সালে মাত্র আড়াই লাখ টাকা। নগদ তুললাম ৫০ হাজার। শাকের ইঞ্জিনিয়ারগিরি ছেড়ে দিয়ে তার শ্বশুরের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৪০ হাজার টাকা আনল। আমি মোল্লা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে অ্যাকাউন্ট্যান্টের ফুলটাইম চাকরি ছেড়ে পার্টটাইম হলাম; উপরন্তু অফিস থেকে ১৮ হাজার টাকা অগ্রিম তুলে এনে দুজন মিলে আদাজল খেয়ে লেগে পড়লাম।

ভেতরে–ভেতরে আমি বেশ উত্তেজনা অনুভব করলাম। কয়েক মিনিট! আর মাত্র কয়েক মিনিট পরেই দেখা হবে তাঁর সাথে! টের পেলাম, হাত ঘামছে আমার। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। ঘরের চারপাশে তাকালাম। বসার ঘর। কোনো জাঁকজমক নেই। নেই কোনো দামি আসবাব। শুধু ঘরে আছে এক সেট সোফা। পুরোনো আমলের। সেই সোফায় আমি বসেছি। আমার সামনে বেতের তৈরি টি–টেবিল। তবে এসব সাধারণ আসবাবই আমাকে আরও বেশি উত্তেজিত করে তুলল। এত বড় লেখক!