
জিকির: অস্থির মনের মহৌষধ
হতাশা শয়তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আর মুমিন যখন হতাশ হয়, তখনই সে শয়তানের সহজ শিকারে পরিণত হয়। সেই বিষণ্ণতাকে কাটিয়ে ওঠার পথ হলো জিকির।

হতাশা শয়তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আর মুমিন যখন হতাশ হয়, তখনই সে শয়তানের সহজ শিকারে পরিণত হয়। সেই বিষণ্ণতাকে কাটিয়ে ওঠার পথ হলো জিকির।

প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও অনেকে সংকটে ভুগছেন। অন্যদিকে সীমিত আয় করেও অনেক মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করছেন। কীভাবে? কারণ প্রকৃত স্বাচ্ছন্দ্য উপকরণে নয়।

ফাতিমার আবদারের উত্তরে রাসুল (সা.) বলেছিলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয় বলব না, যা তোমাদের জন্য একজন খাদেম বা সাহায্যকারীর চেয়েও অনেক উত্তম?’

হজের সফরের প্রতিটি মোড়ে, ইহরাম থেকে শুরু করে আরাফাতের ময়দান পর্যন্ত, রাসুল (সা.) আমাদের নির্দিষ্ট কিছু দোয়া ও জিকির শিখিয়েছেন। হাদিসসমর্থিত দোয়াগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

হাদিসের মূল শব্দ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম রয়েছে। আল্লাহর নাম-গুণাবলি, ইবাদতের দোয়া-জিকির, জাওয়ামিউল কালিমসহ পাঁচটি বিশেষ অবস্থায় হাদিস অবশ্যই হুবহু বর্ণনা করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে একটি শব্দের পরিবর্তনেই ভুল অর্থ প্রকাশ পেতে পারে।

কোরআন ও হাদিস আমাদের শেখায়, মন যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন কিছু আমল তাকে জীবন্ত করে, দুশ্চিন্তা দূর করে এবং বান্দাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনে।

নবীজি (সা.) ঘুমের একান্ত প্রয়োজন হলে মাটি বা চাটাইয়ে সাধারণভাবে বিশ্রাম নিতেন। তাঁর সুন্নতসম্মত ঘুমের পদ্ধতিতে অজু, তেলাওয়াত, দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে ইবাদতের ছোঁয়া ছিল। এই অভ্যাস শারীরিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতার জন্য আদর্শ।

নবীজি তাঁর উম্মতকে রমজানে চারটি আমল বেশি করতে বলেছেন। এর মধ্যে দুটি হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, আর দুটি আমল এমন, যা না করে বান্দার উপায় নেই।

রমজানে দান-সদকা অন্যের রোজা, নামাজ ও জিকিরের সহায়ক হয়ে ওঠে; ফলে সাহায্যকারী ব্যক্তি পরোক্ষভাবে ঐ সব ইবাদতের অংশীদার হয়ে যায়।

রোজাদার ব্যক্তির কাজ হলো, কেবল বড় গুনাহ নয়, নিজেকে সব ধরনের গুনাহ থেকে দূরে রাখবেন। তাহলে তিনি আল্লাহর রহমত, করুণা ও ক্ষমা লাভ করবেন।

সাহ্রি থেকে ইফতার পর্যন্ত পুরো সময় কোরআন তেলাওয়াত, আল্লাহর জিকির ও দোয়ায় রত থাকা রোজার পরিপূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে রোজার বিভিন্ন আদব আছে, যা রোজাদারের মর্যাদা বাড়ায়।

মধ্যরাতের নির্জনতায় জিকিররত জায়নামাজে ওইখানে ঠিক খুশবু ছড়ায় চোখ থেকে আর যায় না মা যে।