
সুরা কাউসার: ইতিহাসের বিস্ময়কর প্রতিশোধ
আল্লাহর রাসুল (সা.)–এর পুত্রসন্তানদের মৃত্যুর পর মক্কার কাফেররা তাঁকে ‘আবতার’ বা নির্বংশ বলে উপহাস করত। আস ইবনে ওয়াইল ছিলেন মক্কার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা।

আল্লাহর রাসুল (সা.)–এর পুত্রসন্তানদের মৃত্যুর পর মক্কার কাফেররা তাঁকে ‘আবতার’ বা নির্বংশ বলে উপহাস করত। আস ইবনে ওয়াইল ছিলেন মক্কার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা।

‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি মক্কায় আপনার বাড়িতে অবস্থান করবেন? নবীজি বলেন, ‘আকিল কি আমাদের জন্য কোনো চারদেয়াল বা ঘরবাড়ি অবশিষ্ট রেখেছে?

অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে তিনি আল্লাহর নির্দেশে জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করে যাওয়ার সময় বারবার মক্কার দিকে তাকাচ্ছিলেন।

মক্কার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়। আবু তালিব যে খুতবা পাঠ করেন, তা জাহেলি যুগের আরবি গদ্যসাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।

কয়েকটা দিন ভালোই ছিলাম, জানতে চাইনি পৃথিবী কেমন চলছে। দেশ আর বিশ্বের রাজনৈতিক পটভূমি কিছুই মনে আসেনি। কাবা শরিফে কয়েকজন আরব ডেকে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘কোথা থেকে এসেছেন?’ উত্তর দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলাম, ‘তোমরা?’ উত্তর, ‘ইরান।’ অজান্তেই বলেছিলাম, ‘তোমরা সাহসী, তোমাদের সাহস সুপারসনিক মিসাইলগুলোর মতো চমৎকার।’ ওরা খুশি হয়েছিল কি না বোঝা যায়নি।

খাওয়ার সময় এক যুবক সালাম দিয়ে ইংরেজিতে জানাল, ইয়েমেন থেকে মাসহ ওমরাহয় এসেছে। তাদের সব চুরি হয়েছে। দেশে ফিরে যেতে পারছে না। একটা চিকেন খেতে দিয়ে অর্থিক সাহায্যে অপারগতা প্রকাশ করলাম। তৎক্ষণাৎ সে চলে গেল। পরে জানলাম, একশ্রেণির মানুষের এটা ব্যবসা। মন খারাপ হলো।

হোটেলের প্রবেশমুখে এখনো আস্তানা গেড়েছে বেশ কিছু বিড়াল, সংখ্যায় পনেরো-বিশের কম হবে না। কোন মানুষ হেঁটে যাওয়ার সময় করুণ গলায় মিও মিও করছে, দেখলে মায়া লাগে। এত দিন হোটেলের উচ্ছিষ্ট খেয়ে তাদের চলে যেত, এখন হয়তো মঙ্গা ভর করেছে তাদের পৃথিবীজুড়ে।

ক্লক টাওয়ার একবার ডানে হারায়, একবার বাঁয়ে হারায়। এভাবে লুকোচুরি খেলতে খেলতে আমাদের গাড়ি পৌঁছে গেল নির্দিষ্ট গন্তব্যে। আমাদের হোটেল ঠিক করা আছে ইব্রাহিম খলিল রোডের কবুতর মাঠের সামনে।

নবীজি (সা.)-এর যুগে মারওয়ায় কোরবানি হতো না; বরং মিনায় কোরবানি হতো, যা মক্কা থেকে তিন মাইল দূরত্বে অবস্থিত। তথাপি তিনি মারওয়াকে কোরবানির স্থান বলেছেন।

মসজিদে নববির আজান শ্রুতিমধুর, নামাজের কিরাত পাঠ অসাধারণ কোনো সুর। এখানের কোনায় কোনায় যেন শান্তির বীজ রোপণ করা আছে। কী অদ্ভুত মুগ্ধতা যেন ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রাখা আছে এ জায়গার জল, মাটি, আকাশ আর বাতাসে। এই অনুভূতি আমার কাছে নতুন, আমি এই পরিস্থিতির কাছে অপরিচিত এবং এই বৈচিত্র্যে আমি অনভ্যস্ত বলে এই পরিবেশ আমার কাছে কখনো অদ্ভুত, কখনো আশ্চর্য।

মসজিদে নববিতে ৩০১ আর ৩৩০ নম্বর গেটের পাশে পাসপোর্ট আর ভিসার রেকর্ড রেখে বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার দেওয়া হয়। আমি আর আমার স্ত্রী রুনা আসরের নামাজ শেষে ৩৩০ নম্বর গেটে গিয়ে একটি হুইলচেয়ার নিলাম।

আল্লাহ-তাআলা নুহ (আ.)-এর নৌযানে যাঁদের আরোহন করিয়েছিলেন, তাঁদের একজন ছিলেন জুরহুম, তাঁর মাধ্যমে বিশুদ্ধ আরবি টিকে থাকে এবং ভাগ্য জুরহুমকে টেনে আনে মক্কায়।