
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশের বিধান প্রশ্নে রুলের ওপর শুনানি ১৭ জুন
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং ২০২৫ সালের গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিল প্রশ্নে রুল।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং ২০২৫ সালের গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিল প্রশ্নে রুল।

রাজস্ব খাত সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তা জাতীয় সংসদে পাসের জন্য তোলেনি বর্তমান বিএনপি সরকার। এখন নতুন বিল আকারে ওঠানো হবে।

মৌলিক সংস্কার সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন সারা হোসেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন এবং খোলাচিঠি লিখেছেন। কমিশনের সচিব বলেছেন, এতে কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়েছে। বিদায়ী সদস্যরা ধোঁয়াশায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করায় ৩১ বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের আশঙ্কা করা হয়েছে। সরকারকে নির্বাচনী অঙ্গীকার মেনে চলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি। এসব নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ৯১টি বিলের মাধ্যমে অধিকাংশ অধ্যাদেশ পাস হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিলকে জুডিশিয়ারির হৃৎপিণ্ডে হাত দেওয়া বলে সমালোচনা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন। জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্ত আলোচনায় তিনি এটাকে আত্মঘাতী কাজ বলে উল্লেখ করেন। মো. মাসদার হোসেনও সরকারের এ কাজের কঠোর সমালোচনা জানিয়েছেন।

জাতীয় সংসদ নির্ধারিত সময়ে অনুমোদন না করায় গণভোট অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। শুক্রবার শেষ দিনে ২৪টি বিল পাস হয়েছে, সব মিলিয়ে ১১৩টি অধ্যাদেশ অনুমোদিত। এতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন বিতর্কের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশে সংশোধনী নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে বিরোধী দল জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে। সরকারি দলের তিনটি সংশোধনী গৃহীত হয়েছে, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়। বিরোধী নেতা শফিকুর রহমান নেতৃত্ব দেন এই প্রতিবাদে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংসদে বাতিলের পর পুরোনো আইন পুনর্বহাল হয়েছে। এতে কমিশনের ক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা হ্রাস পাবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ। বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগের আইনে ফেরার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার কমিশনে সরকারের প্রভাব বাড়বে।