জাপানের ওসাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রথমবারের মতো বৃহৎ আকারে নববর্ষ বরণ ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে। গত ২৬ এপ্রিল ওসাকার সেনরি মিনামি পার্কে বিপুল সংখ্যক অংশগ্রহণকারীর সমাগমে উৎসবের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। “কানসাই বৈশাখী মেলা কমিটি”-র তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠান এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
গান, নাচ এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের রঙিন পরিবেশে পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়। প্রবাসের দূরত্ব ভুলে সবাই যেন ফিরে যায় বাংলার নববর্ষের চেনা আবহে। শিশু-কিশোর থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ সবাই অংশ নেয় এই আনন্দময় মিলনে, যা প্রবাসে বসেও বাংলাদেশের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
ওসাকা জাপানের একটি প্রিফেকচার। ওসাকার সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি প্রিফেকচার মিলে ‘কানসাই’ রিজিয়ন গঠিত। হিরোশিমা, টোকিও বা ফুকুওকার মতো শহর থেকে দূরবর্তী এই অঞ্চলে বৈশাখী উৎসবের দাবি দীর্ঘদিনের।
ওসাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের বড় অংশ ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও গবেষক। তাদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোররা। মূলত তাদের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং প্রবাসে সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন।
কানসাই অঞ্চলে এত বড় আকারে বাংলাদেশিদের সমাবেশ এই প্রথম। ফলে সব বয়সের অংশগ্রহণ এবং শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে মিনামি সেনরি পার্ক উৎসবমুখর হয়। গান, নাচ ও বাঙালি খাবারের সমাহারে প্রাঙ্গণ মুখরিত। অনেকের কাছে এটি ঢাকার রমনার বটমূলের আবহ ফিরিয়ে আনে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাপানি নাগরিকও উপস্থিত ছিল।
অনুষ্ঠান শুরুতেই পান্তা-ইলিশ, ব্রকলিভর্তা, আলুভর্তা, শুকনা মরিচ ও শুটকিভর্তা দিয়ে সবাইকে আপ্যায়ন করা হয়। ‘এসো হে বৈশাখ’-এর সুরে আবহ তৈরি হয়।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে এই মেলা সবার মনে জাগায় নতুন শুরুর স্বপ্ন ও আশার আলো। এরপর জাতীয় সংগীতের সুরে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়। প্রখ্যাত শিল্পী রুমি খন্দকারের গান হৃদয় ছুঁয়ে যায়। গান, নৃত্য ও সম্মিলিত পরিবেশনায় আয়োজন রঙিন হয়।
দ্বিতীয় পর্বে মধ্যাহ্নভোজ হিসেবে মাটন বিরিয়ানি ও পানীয় পরিবেশন করা হয়। কানসাইয়ের পরিচিত মুখ রফিক আজিজ ও সাজ্জাদ হোসেনসহ সবার খাবার বণ্টন প্রশংসিত হয়।
জাপানি নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের অতিথিরা এই স্বাদ ও সংস্কৃতি উপভোগ করেন। খাবারের পর র্যাফল ড্র ও উপহার বিতরণে উত্তেজনা যোগ হয়। পরিশেষে কমিটি পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজনে অবদান রেখেছেন নিপুণ, সাজ্জাদ হোসেন, রুমি খন্দকার, রফিক আজিজ, মিরাজ হোসেন (বাইক), মিরাজ হাওলাদার, জাহিদুর রায়হান প্রমুখ।
ভবিষ্যতে কমিটি আরও বড় আয়োজন করে প্রবাসে বাঙালির সংস্কৃতি ছড়াবে।






