সঠিক সুযোগ পেলে বাংলাদেশের গ্রামীণ যুবকরা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে তারা এখন দিশেহারা, বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের চাপে শহরের দিকে ঝুঁকছেন।
খাল খনন ও পুনঃখনন শুধু সেচের জন্য নয়, এটি যুবকদের স্বনির্ভর করানোর এক বিশাল পরিকল্পনা। পুনরুজ্জীবিত খালে আধুনিক কৃষিপদ্ধতি, মৎস্যচাষ ও হাঁস পালন গ্রামীণ যুবকদের আয়ের নতুন উৎস তৈরি করতে পারে। খালের দুপাশে সামাজিক বনায়ন হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মাটির ক্ষয় রোধ, ফল ও জ্বালানী কাঠের সরবরাহ বাড়বে এবং অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া এটি স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ সফল করতে সরকারি মন্ত্রণালয়-দপ্তর, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও বেসরকারি খাতের শক্তিশালী সমন্বয় দরকার। আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে খালের নাব্য পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় যুবকদের সম্পৃক্ত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে। প্রশিক্ষণ ও সহজ ঋণের মাধ্যমে যুবকদের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব, এবং খালের পাড় ইজারা দিয়ে মাছ চাষ ও বনায়নের মাধ্যমে স্থায়ী কর্মসংস্থান গড়ে তোলা যায়।
মৃতপ্রায় খালগুলো পুনরুজ্জীবিত করা গ্রামীণ অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত করার সমতুল্য। সঠিক পরিকল্পনা, অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে এটি কৃষিতে বিপ্লব আনবে, যুব বেকারত্ব কমাবে এবং আগামী প্রজন্মকে স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে নিয়ে যাবে।
লেখক: কৃষিবিদ মো. রুহুল আমিন সরকার, ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর, যুব উন্নয়ন ও আরবান লাইভলিহুড ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]






