আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কানাডার টরন্টোতে ‘নারীর কণ্ঠে জাগুক পৃথিবী’ শিরোনামে এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান হয়েছে। এই আয়োজন হয়ে উঠেছে ভাবনা, সৃজনশীলতা ও মানবিক ঐক্যের অনন্য মিলনস্থল। নানা পেশা ও অভিজ্ঞতার মানুষ এখানে জড়ো হয়ে কবিতা, অনুভূতি, জীবনগল্প ও বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে উপভোগ্য করে তুলেছেন। নারীরা তাঁদের অগ্রযাত্রা, সাহস ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে আয়োজনটিকে অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রূপ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, ঐক্য, সৃজনশীলতা ও ইতিবাচক মনোভাবের শক্তিতেই সমাজ এগিয়ে যায়। নারীর কণ্ঠ, ভাবনা ও স্বপ্ন একসঙ্গে উচ্চারিত হলে জেগে ওঠে নতুন পৃথিবীর সম্ভাবনা।
টরন্টোর ফিল্ম ফেয়ার মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করেন কবি, গীতিকার, লেখক ও সংগীতশিল্পী মৈত্রেয়ী দেবী। এতে অংশ নেন কমিউনিটির নেতা, তরুণ প্রজন্ম, নারী উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সম্পূর্ণ নিয়মবিহীন এই আয়োজনে ছিল না কোনো ধরাবাঁধা কাঠামো।
বিশ্বজুড়ে নারীরা নেতৃত্ব, উদ্ভাবন ও পরিবর্তনের বার্তা ছড়াতে থাকা এই সময়ে অনুষ্ঠানটি জানিয়ে দিয়েছে, নারীর ক্ষমতায়ন কোনো একদিনের উৎসব নয়, বরং চলমান আন্দোলন। নারীর শক্তি শুধু পরিবার নয়, সমাজ ও বিশ্বকে এগিয়ে নেয়। নারীর কণ্ঠ জাগলে জেগে ওঠে নতুন পৃথিবী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারী কখনো প্রতিবাদে, কখনো পরিবর্তনে আবার কখনো নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায় পুরো পৃথিবীকে। নারী শুধু একটি শব্দ, একটি শক্তি, যে শক্তি পরিবারকে গড়ে এবং সমাজকে এগিয়ে নেয় আর পরিবর্তনের পথে নেতৃত্ব দেয়।
আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। তবে এখনো অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের আয়োজন নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁরা বলেন, একজন নারীই পারেন বিভিন্নভাবে তাঁর সংগ্রামটাকে এগিয়ে নিতে।
আয়োজক মৈত্রেয়ী দেবী বলেন, নারীদের কর্মক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ। তাঁর মতে, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নারী ও পুরুষ উভয়কেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, নারীর কণ্ঠ মানে এটি একটি সাহস, ভালোবাসা, প্রতিবাদ ও সৃষ্টি শক্তি। যখন নারী নিজের কথা নিজে বলতে শিখে, নিজের অধিকার দাবি করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখন এই সমাজ বদলাতে শুরু করে। এ বিশ্বাস থেকেই আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়—নারীর কণ্ঠে জাগুক পৃথিবী।
অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে যাঁরা প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তুলেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা আমাদের সক্ষমতা জানান দিয়েছি। আমাদের কাজ সামনে এগিয়ে চলা। সৃজনশীলতা আর ঐক্যের শক্তিতে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’
অনুষ্ঠানে অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী প্রেমা চৌধুরী, লিবারেল পার্টির এম পি পি ক্যান্ডিডেট শারমিনা নাসরিন, প্রফেশনাল বিহাবিয়্যার এনালাইসিস তাসমিনা খান, আইনজীবী, আবৃত্তিশিল্পী আসমা হক, ডিজিটাল মার্কেটিং অফিসার ফারিয়া সাহেলী, নাট্য অভিনেত্রী আবৃত্তিশিল্পী নাহিদ আশরাফী, কর্মজীবী নারী মাসুদা পলি, মানবী মৃধা, রুপা দে, সংগীতশিল্পী ও ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট সারাহ্ বিল্লাহ্, আবৃত্তিশিল্পী দিলারা নাহার বাবু, আই টি সাপোর্ট স্পেশালিস্ট ইলোরা সাঈদ, শিক্ষক ও রিয়েলটর মার্জিয়া আফরোজ, আবৃত্তিশিল্পী মেরী রাশেদীন, সংগীতশিল্পী রোকসানা শানু, সংগীতশিল্পী নাসরিন খান, কর্মজীবী নারী রাবেয়া হোগান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আঁখি ভদ্র, নৃত্যশিল্পী পারমিতা তিন্নি, সংগঠক রিফ্ফাত ন্যূয়েরীন, রিয়েলটর ফারাহ্ খান এবং আলোকচিত্রী জিশান।
অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিলো নন্দন টিভি ও ক্লাইমেট চ্যানেল। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে একটি কেক স্পন্সর করে ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট মনীষ পাল। ইফতারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান। ইফতার পরিবেশন করে উন্দাল রেস্টুরেন্ট। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল টরন্টো ফিল্ম ফোরাম।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]






