যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথমবারের মতো এত বড় আকারের বিক্ষোভ দেখলাম। ‘নো কিংস, নো ওয়ার’ স্লোগানে দেশজুড়ে উত্তাল আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে ছোট শহরগুলোতেও। কানসাস রাজ্যে, যাকে ট্রাম্পের অঙ্গরাজ্য বলা হয়, এখানকার নির্বাচনী ইতিহাসে ডেমোক্রেটিক পার্টি কখনো জিততে পারেনি। ১৯৩০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘ হারের রেকর্ডগুলোর একটি এখানকার। তবু শনিবার এ রাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর উচিটার ডাউনটাউনে এক কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে শুধু ‘নো কিংস’। নানা রঙের প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, হাতে আঁকা স্লোগান নিয়ে নেচে গেয়ে দিনভর গান-স্লোগানে হাজারো মানুষের জয়ধ্বনি। চোখে দেখা এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ৯০ শতাংশ পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী। তবে মঞ্চে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যুবক-যুবতীরা। আন্দোলনের সময় রাস্তায় গাড়ির চলাচলে কোনো বাধা দেখা যায়নি। পথচারী গাড়ি থেকে হর্ন বাজিয়ে শত শত মানুষ সমর্থন জানিয়েছে।
এ কী অদ্ভুত গণতান্ত্রিক আন্দোলন! বিশ্বের ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজ দেশের রাজপথে সাধারণ মানুষের বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। রাস্তার দুপাশে সকাল ১০টা থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত যেন এক স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের তীব্র প্রতিবাদ। রঙিন ব্যানারের মাঝে এক নারীর হাতের ফেস্টুনে চোখ পড়ল মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের বিখ্যাত উক্তি: “যেকোনো স্থানের অবিচার সর্বত্র ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি,” অর্থাৎ যেকোনো অবিচার সবাইকেই প্রভাবিত করে এবং তা উপেক্ষা করা প্রত্যেকের অধিকার ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
এমন কোনো বিক্ষোভকারী ছিলেন না, যাঁর হাতে অন্তত একটুকরা হাতে লেখা কাগজের ফেস্টুন ছিল না। প্রতিটি হাত মুষ্টিবদ্ধ ছিল। এক নারী লাইকা, তাঁর ফেস্টুনে লেখা: ‘গণতন্ত্রে কিং বলে কিছু নেই। তাই আমেরিকাতেও কোনো কিং চাই না।’ কারও হাতে: ‘নিজের জীবনের দায়িত্ব নিজে নিন, কেউ এসে আপনাকে বাঁচাবে, তার জন্য অপেক্ষা করবেন না।’ অনেকের হাতে ‘নো ওয়ার’, এক মধ্যবয়সী প্ল্যাকার্ডে লেখা: ‘ইরান সংঘাত থেকে দূরে থাকো। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কিং তুমি ফিরে যাও’।
আয়োজক সংগঠন ডিফেন্ড ডেমোক্রেসির তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মঞ্চে যে কেউ বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছেন।
সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত ভালোলাগা এই আন্দোলন। কোনো হিংসা বা ভাঙচুর নেই, যা ক্যাপিটল হিল হামলার কথা স্মরণ করায়। এটি ছিল গণতন্ত্রের অলংকার।






