পর্তুগালের শহরগুলো বসন্তের আগমনে যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে। রাজধানী লিসবনের রাস্তাঘাট, চত্বর ও পাহাড়ি গলিতে এখন উজ্জ্বল গোলাপি ফুলের ছড়াছড়ি। এই ফুলের গাছের নাম জুডাস ট্রি, যা ইউরোপে ‘ইউরোপিয়ান রেডবাড’ নামেও পরিচিত।
শহরে বসন্তের উৎসবমুখর পরিবেশ
লিসবনের ঐতিহ্যবাহী ট্রামলাইনের কাছে, প্রাচীন ভবনের সামনে বা ছোটখাটো স্কয়ারে চোখ পড়লেই গোলাপি ফুলে ঢাকা জুডাস ট্রির গাছ। স্থানীয় লোকজন বলছেন, এ বছর ফুল ফোটার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় আরও বেশি, যা শহরকে প্রদান করেছে এক অসাধারণ সৌন্দর্য।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
কেন এত বিখ্যাত এই ফুল
জুডাস ট্রি কেবল সৌন্দর্যের জন্যই নয়, এর সঙ্গে ইতিহাস ও সংস্কৃতির যোগাযোগ রয়েছে। ইউরোপীয় লোককথায় বিশ্বাস করা হয়, এই গাছের সঙ্গে জড়িত বাইবেলের চরিত্র জুডাসের গল্প। যদিও এটি কেবল কিংবদন্তি, তবু শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইউরোপের সংস্কৃতিতে এর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে অবদান
এই ফুল শুধু চোখের আনন্দই দেয় না, পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী পোকামাকড়ের জন্য এটি মূল খাদ্যসূত্র। বসন্তের শুরুতে যখন অনেক গাছে ফুল কম থাকে, তখন জুডাস ট্রি প্রকৃতিকে নতুন শ্বাস ফিরিয়ে দেয়।
পর্যটকদের টানছে বহুগুণে
লিসবনের রাস্তায় হলুদ ট্রামের পাশে গোলাপি ফুলের এই দৃশ্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ফলে পর্যটকদের আকর্ষণ বেড়েছে অনেকগুণ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে লোকজন আসছেন কেবল এই বসন্তের দৃশ্য উপভোগ করতে। বিশেষ করে ভোর বা বিকেলের আলোয় ফুলের রং আরও উজ্জ্বল হয়। অনেক ফটোগ্রাফার লিসবনকে ‘স্প্রিং ব্লসম ডেস্টিনেশন’ বলে অভিহিত করছেন।






