আমেরিকার নিউ জার্সিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির একদল সদস্য Axiom REACH Foundation-এর Children’s Cancer Fund–এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্যানসারে আক্রান্ত দরিদ্র শিশুদের চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে আসছেন। এই স্বেচ্ছাসেবীভিত্তিক মানবিক উদ্যোগ ইতিমধ্যে অনেক পরিবারের জন্য আশার দিপ্তি হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি নেতাদের উদ্যোগে গঠিত এই ফাউন্ডেশনে হাফিজ সিকদার প্রেসিডেন্ট এবং মোহাম্মদ এহসান সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের মূল লক্ষ্য হলো অর্থাভাবে কোনো শিশুর জীবনরক্ষাকারী ক্যানসার চিকিৎসা বন্ধ না হয়।

গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দাতাদের সাহায্য এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অক্লান্ত চেষ্টায় ৭০ জনের বেশি শিশু ক্যানসার রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে কর্মসূচির আওতায় ৪৭ জন শিশু সহায়তা পাচ্ছে, যার মধ্যে ২৮ জন সক্রিয় চিকিৎসাধীন, ১০ জন মেইনটেন্যান্স থেরাপিতে এবং ৯ জন রিমিশনে রয়েছে।

সহায়তাপ্রাপ্ত শিশুরা বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আহমেদ মেডিকেল সেন্টার, আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটাল, মহাখালী।

ফাউন্ডেশনের সহায়তায় চিকিৎসা পাওয়া কয়েকজন শিশু ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকার ১৪ বছর বয়সী সিনথিয়া, সিরাজগঞ্জের ৪ বছর বয়সী আরিশা এবং কিশোরগঞ্জের ৭ বছর বয়সী সাফওয়ান—তিনজনই চিকিৎসার পর এখন রিমিশনে রয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে।

ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট হাফিজ সিকদার বলেন, “আমাদের লক্ষ্য খুবই সহজ, যদি চিকিৎসার মাধ্যমে একটি শিশুকে বাঁচানো যায়, তবে দারিদ্র্য কখনোই তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার কারণ হওয়া উচিত নয়। কমিউনিটির সহযোগিতায় আমরা এই পরিবারগুলোর সবচেয়ে কঠিন সময়ে তাদের পাশে থাকতে চাই।”

স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, সহায়তাপ্রাপ্ত অনেক শিশু এমন পরিবার থেকে আসে যেখানে নিয়মিত খাবার জোগানোই অনিশ্চিত। এসব পরিবারের জন্য বাইরের সহায়তা ছাড়া ক্যানসার চিকিৎসার ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব। দানের অর্থ সরাসরি রোগীর চিকিৎসা ব্যয়ে ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে কেমোথেরাপি, ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা, হাসপাতালে থাকার খরচ এবং জরুরি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত।

নিউ জার্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা নিয়মিত এই উদ্যোগে সহায়তা করছেন। বিশেষ করে রমজান মাসে অনেক দাতা তাঁদের জাকাত এই তহবিলে দান করেন, যাতে দরিদ্র পরিবারগুলোর শিশুদের চিকিৎসা অব্যাহত থাকে।

এই উদ্যোগের মূল বার্তা স্পষ্ট—বাংলাদেশে দারিদ্র্যের কারণে কোনো শিশু ক্যানসার চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয় না।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]